হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের FIFA মিটিং এবং টেড নাজেন্টের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকার: রাজনীতি, দেশপ্রেম ও ২০২৬ বিশ্বকাপের আলাপন.
গত সপ্তাহে রাজনীতি আর খেলাধুলার এক দারুণ মেলবন্ধন দেখা গেল। হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন FIFA প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। উদ্দেশ্য: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা। একই সময়ে আমার সুযোগ হয় জনপ্রিয় রকস্টার ও খোলামেলা রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য পরিচিত টেড নাজেন্টের সঙ্গে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়ার।
⚽ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ২০২৬ বিশ্বকাপ
২০২৫ সালের ৬ মে, হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম FIFA টাস্ক ফোর্সের বৈঠক। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশ্বাস দেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন:
“আমেরিকায় ভ্রমণ করে যারা এই খেলা দেখতে আসবেন, তাদের নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা যেন নিখুঁত হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের সরকারের প্রতিটি অংশ একসাথে কাজ করবে।”
এ সময় FIFA প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল টুর্নামেন্ট প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।
তবে ইনফান্তিনোর হোয়াইট হাউজ সফর কিছু বিতর্কও তৈরি করেছে। তিনি এই সফরের কারণে FIFA কংগ্রেসে দেরি করে পৌঁছালে ইউরোপীয় ফুটবল সংগঠন UEFA-এর বেশ কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদস্বরূপ বেরিয়ে যান। অনেকে মনে করেন, রাজনীতি ও ক্ষমতার খেলায় ফুটবলের আসল আত্মা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
🎸 টেড নাজেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকার: সোজা কথা, স্পষ্ট মতামত
আমার সাক্ষাৎকারে টেড নাজেন্ট যথারীতি খোলামেলা এবং তীব্রভাবে ট্রাম্পপন্থী মন্তব্য করেন। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন:
“আমার দেশকে নিরাপদ রাখো, বাকি সব পরের কথা।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলেন এবং বলেন, সরকারকে অবশ্যই আমেরিকান মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করতে হবে।
নাজেন্টের কথাবার্তা অনেকের কাছে বিতর্কিত হতে পারে, কিন্তু তার মতের পেছনে যে একটা বড় জনগোষ্ঠীর আবেগ কাজ করে, তা অনস্বীকার্য।
🧩 রাজনীতি ও খেলার সংযোগ
এই দুটি ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—খেলাধুলা আর রাজনীতি আলাদা নয়। বিশ্বকাপের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক ইভেন্টে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ, রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বড় প্রভাব ফেলে।
একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৬ বিশ্বকাপকে একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যের রূপ দিতে চাইছেন। অন্যদিকে, টেড নাজেন্টের মতো ব্যক্তিত্বরা ঘরোয়া জনমতকে দৃশ্যমান করছেন, যারা দেশপ্রেম ও নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।
উপসংহার:
রাজনীতি, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির এই সংমিশ্রণ আমাদের দেখায়, একবিংশ শতাব্দীতে একটি বড় খেলার আসর শুধু মাঠে নয়, দুনিয়ার নানা কোণায় নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এবং শিল্পীর অনুভূতি—দুটিই আমাদের সময়ের প্রতিচ্ছবি।
0 Comments