ইউরোপজুড়ে বিশাল বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিশ্বব্যাপী সৌর দুর্যোগের আশঙ্কা, সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা নাকচ

 


ইউরোপজুড়ে বিশাল বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিশ্বব্যাপী সৌর দুর্যোগের আশঙ্কা, সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা নাকচ

সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া এক অভূতপূর্ব ও হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনে বিশাল প্রভাব ফেলে দিয়েছে এবং একইসঙ্গে উত্থাপন করেছে একটি ভয়াবহ প্রশ্ন—আমরা কি একটি বৈশ্বিক সৌর দুর্যোগের মুখোমুখি?

জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কিছু অংশসহ বহু দেশে একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ট্রান্সপোর্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবা সবই ব্যাহত হয়। বিশাল সংখ্যক মানুষ রাতারাতি অন্ধকারে ডুবে যায়, আর এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অনেকেই সন্দেহ করেন এটি একটি সংগঠিত সাইবার হামলা হতে পারে।

তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা দ্রুতই নিশ্চিত করে যে, কোনো ধরনের সাইবার আক্রমণ ঘটেনি। কোনো ম্যালওয়্যার, ডেটা লিক বা অপারেশনাল সিস্টেম হ্যাকের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এর পরিবর্তে বিজ্ঞানীরা এখন ধারণা করছেন, এই বিভ্রাটের পেছনে রয়েছে একটি চরম সৌর ঝড়—যাকে বলা হয় জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম। এটি সূর্য থেকে নির্গত তীব্র সৌর বিকিরণের ফলে ঘটে থাকে এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কয়েকদিন আগে সূর্যের এক বিশাল করোনাল মাস ইজেকশন (CME) বা সৌর বিস্ফোরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর ফলে সৃষ্ট ভূ-প্রবাহ ইউরোপের সংযুক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে অকার্যকর করে দেয়।

এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: আমরা কি আদৌ প্রস্তুত আছি এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য? আধুনিক সভ্যতা যতই ডিজিটাল হয়ে উঠুক না কেন, সূর্যের মতো বিশাল প্রাকৃতিক শক্তির সামনে আমরা কতটা অসহায়, সেটাই যেন উঠে এলো এই ঘটনায়।

বিশেষজ্ঞরা এটিকে ১৮৫৯ সালের “ক্যারিংটন ইভেন্ট”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন—এটি ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর ঝড়। যদি তেমন মাত্রার কোনো সৌর ঝড় আজকের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, জিপিএস এবং বিদ্যুৎব্যবস্থাসহ সবকিছুই অচল হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ইউরোপ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর সরকার ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো জোর দিচ্ছে সৌর ঝড় পর্যবেক্ষণ, পাওয়ার গ্রিডের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর।

এই ঘটনাটি এক কঠিন বার্তা দিয়েছে—প্রযুক্তির যুগে থেকেও আমরা এখনো প্রকৃতির কাছে কতটা অসহায়।

Post a Comment

0 Comments